কালকিনি-ডাসার(মাদারীপুর) প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরের কালকিনির পৌর এলাকার ভুরঘাটা গ্রামের মহিউদ্দিন হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ীর জমি রাতের আধারে দখলের চেষ্টার অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মীর গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সোমবার রাতে এ কর্মসুচি পালন করে ভুক্তভোগী।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, গত রোববার গভীররাতে মীর গোলাম ফারুকের শতাধিক লোকজন মিলে ওই ব্যবসায়ীর নির্মান করা সীমানা প্রাচীর গুড়িয়ে দেয়। এসময় ভুক্তভোগী ওই দেয়াল ভাঙতে বাধা দিতে গেলে তারা কোন কথা শুনতে চায়নি। পরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন থানায় কল দিলে পুলিশের কোন সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়। থানায় মামলা না নেয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটা নামক স্থানে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগী। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন হাওলাদার জানায়, তিনি একজন ব্যবসায়ী । দির্ঘ্যদিন যাবৎ ৪২ নং মজিদ বাড়ি মৌজার এস.এ ৬৪ নং ও বিআরএস ১৪২ নং খতিয়ানের এস.এ ১৫৭ নং বিআরএস ১৭৮ নং দাগের একটি জমি নিয়ে কালকিনি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মীর গোলাম ফারুকের সাথে ৬ শতাংশ জমি নিয়ে তার সাথে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ মিমাংশার জন্য বিগত দিনে কয়েকটি ধাপে মীর গোলাম ফারুককে ২০ লক্ষ টাকার উপরে দিয়েছি মহিউদ্দিন। কিন্তু মীর গোলাম ফারুকের দাবি ছিল মোট ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। সেই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় রবিবার দিবাগত রাত দেড় টার দিকে সেই জমিতে থাকা সীমানা প্রাচীর শতাধিক লোকজন দিয়ে রাতের আধারে ভেঙে দখলের চেষ্টার করে । যার নেতৃত্ব দেন মীর গোলাম ফারুকের ছোট ভাই মীর সরোয়ার আলম । হামলাকারীদের কিছু লোক সেই জমিতে থাকা ফলের আড়তের মধ্যে থাকা ৩ জন কর্মচারীর তিনটি মোবাইল সেট ও ইষ্টিলের আলমারীতে থাকা ব্যবসায়ের ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন বলেন, মীর গোলাম ফারুকের নেতৃত্বেই দেয়াল ভাংচুরসহ মালামাল লুটপাট করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে মীর গোলাম ফারুকের মুঠোফোনে বলেন, মহিউদ্দিন ১২ শতাংশ জমির মালিক । সে জমি অন্যদিক দিয়ে নিয়েছে। অতিরিক্ত এ জমিটি দখলের চেষ্টা করতেছে। আর মিমাংশা হয়েছে হাবিবুর রহমান নামে এক জনের সাথে। বাকি সব অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা। উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এসব করাচ্ছে মহিউদ্দিন।
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, রাতের ঘটনায় পুলিশ গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে যেহেতু জমি সংক্রান্ত বিষয় তাই আদালতে মামলার পরামর্শ দিয়েছি ভুক্তভোগীকে।