ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে পটুয়াখালী জেলার সংসদীয় আসনের রাজনীতি। পটুয়াখালীতে ৮ উপজেলা ও ৪ পৌরসভা নিয়ে চারটি সংসদীয় আসন। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, সামুদ্রিক মৎস্যবন্দর আলিপুর-মহিপুর, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে সম্ভাবনাময় এ জেলায় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় পুনর্মিলনী, গণসংযোগ ও কর্মিসভার মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনে এলাকার মানুষ রাজনীতিতে এখন সরব। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলাগুলোতে তৈরি হচ্ছে উৎসবের আমেজ।
পটুয়াখালীতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ভোটারদের মন জয় করতে নেমে পড়েছেন নির্বাচনি মাঠে। পটুয়াখালীর চার আসনে কার কার ভাগ্যে জুটবে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ, আর নির্বাচনি বৈতরণী পার হয়ে কে পরবে বিজয়ের মালাÑতা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ ও সমীকরণ। তারা মনে করেন, বিএনপি মনোনয়নে ভুল করলে চরম মাশুল গুনতে হবে। জামায়াতে ইসলামী জেলার চারটি আসনেই একক প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনি মাঠে রয়েছে। নির্বাচনি মাঠে ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপির কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে।
পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মফিজউদ্দিন চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ‘আশা করি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। তাহলিই সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী বিজয়ী হয়ে দেশকে উন্নত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারবেন এবং গণতন্ত্র বিকশিত হবে। গণতন্ত্র বিকাশে এবং দেশের উন্নয়নে ভালো নির্বাচনের বিকল্প নেই।’
পটুয়াখালী পৌরসভার প্রবীণ ভোটার আবদুল জব্বার বলেন, ‘গত ১৫ বছর ভোট দিতে পারিনি। আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাগো কেন্দ্রে যাইতে দেয় নাই। বলছে ভোট হইয়া গেছে। এখন যে ভালো কাজ করবে, দেশের উন্নয়ন করবে, এবার তাকেই ভোট দেব।’
পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি)
পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ ৫ বার, বিএনপি ৩ বার ও জাতীয় পার্টি ৩ বার নির্বাচিত হয়েছে।
এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তার হাতে অবহেলিত এ জনপদের উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত হয়। তিনি ২০০৮ এবং ২০১৮ সালেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলায় ঈদ পুনর্মিলনী, কর্মিসভা, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে মিলিত হয়ে জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আলতাফ চৌধুরী বলেন, ‘গত ১৬ বছর আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর স্টিমরোলার চালানো হয়। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এমন কোনো লোক নেই, যার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়নি। আমি ১৪টি মামলা মাথায় নিয়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। আমার পটুয়াখালীর বাসভবনে অসংখ্যবার হামলা ও ভাঙচুর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে বড়পুকুরিয়া মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে মামলায় ১৯ মাস এবং ২০২৪ সালে প্রহসনের নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় আমি সাড়ে ৫ মাস কারাগারে ছিলাম।
অপরদিকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী সদ্য নির্বাচিত জেলা বিএনপি সভাপতি স্নেহাংসু সরকার কুট্টিও নেতাকর্মীদের নিয়ে সদর উপজেলা, মির্জাগঞ্জ ও দুমকিতে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ৪৬ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত আছি। নমিনেশন দলের ব্যাপার, দল যাকে বিবেচনা করবে, তিনিই নির্বাচন করবেন। আমি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কখনোই যাইনি, যাবও না। তবে আমি আশাবাদী দল আমাকে বিবেচনা করবে।’
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির নাজমুল আহসান এলাকায় পুনর্মিলনী, গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি বলেন, ‘পটুয়াখালী-১ আসনে জনসাধারণের কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে ইনশাআল্লাহ আমি তাদের পাশে আছি।’
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার ২০২০ সালে এবি পার্টির যাত্রা শুরু থেকে এলাকায় রাজনৈতিক ব্যানারে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানকল্পে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করব। পুরোনো বন্দোবস্তকে কবর দিয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সৃষ্ট জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাব।’
নির্বাচনমুখী রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কলাপাড়া উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি হাবীবুর রহমান, জমিয়তে উলামায় ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিম, এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী পটুয়াখালী জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল)
বাউফল উপজেলায় মোট ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-২ গঠিত। স্বাধীনতার পর এ আসন থেকে বেশিরভাগ সময় এমপি নির্বাচিত হয়েছে আওয়ামী লীগ থেকে। ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন ডা. ইয়াকুব আলী শরীফ। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়ে শহিদুল আলম তালুকদার এমপি নির্বাচিত হন। বাউফল থেকে নির্বাচিত সাতবারের এমপি আ.স.ম. ফিরোজ ৫ আগস্টের পর দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আর তার অনুসারী আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাকর্মী পলাতক রয়েছেন।
এ আসনে ত্রিধারায় বিভক্ত বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থককে নিয়ে দলীয় কর্মসূচিসহ বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ এলাকায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, সভা-সমাবেশ করছেন। জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ ও ইসলামি দলগুলোর এখন পর্যন্ত মাঠে কোনো নির্বাচনি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
এ আসনে মনোয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপির চার নেতা। তারা হলেন ডাকসুর সাবেক নেতা ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহমেদ তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম মিজানুর রহমান লিটু।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আমাকে মনোনয়ন দিলে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের ফসল বিএনপির ঘরে তুলব। জনসাধারণকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বাউফল উপহার দেব।’
ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘আমি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে দলের জন্য জীবন-যৌবন বিলিয়ে দিয়েছি। বিএনপি করার কারণে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার আমার মিল-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করে দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়ন দিয়ে আমাকে মূল্যায়ন করবেন ইনশাআল্লাহ।’
জামায়াত প্রার্থী ডা. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমরা বাউফলবাসী একটি পরিবার। এ উপজেলার প্রতিটি মানুষ আমার আপনজন। আমাদের মূল লক্ষ্য বাউফলকে উন্নত ও আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।’
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা)
গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত নদীবেষ্টিত পটুয়াখালী-৩ আসন আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এ আসনটিতে ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে সাতটিতে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ, একটিতে বিএনপির প্রার্থী। তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে থাকে। আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটাররা দলটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দলে যোগ দিয়ে প্রচারকাজ চালাতে দেখা গেছে তাদের।
তবে এবার আসনটিতে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের দুই কেন্দ্রীয় নেতার কর্মী-সমর্থকের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে নির্বাচনি মাঠ গরম রয়েছে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য হাসান মামুন। তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অবহেলিত এ অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আওয়ামী লুটেরা এমপিরা নিজেদের পকেট ভারী করেছে, জনগণের জন্য কিছু করেনি। তাই গলাচিপা ও দশমিনাবাসী আজ বিএনপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে নিরলস কাজ করব।’
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূর দল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে এলাকায় আসেন।
জামায়াতে ইসলামী বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য এবং পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক শাহ আলমের বড় শক্তি গলাচিপা-দশমিনায় জামায়াতে ইসলামীর বিপুল সমর্থক রয়েছেন। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি আবু বকর সিদ্দিককে পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য দলের কোনো প্রার্থীকে মাঠে কাজ করতে দেখা যায়নি।
জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম বলেন, আমরা দলীয়ভাবেই গলাচিপা-দশমিনার জনসাধারণের ভাগ্যের উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এ আসনে প্রায় ২০০ নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছি। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী ও মহিপুর)
কলাপাড়া উপজেলা, দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী এবং মহিপুর থানা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-৪। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে বেশিরভাগ সময় জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়লাভের ব্যাপারে বিএনপি আশাবাদী; তবে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনে মোস্তাফিজুর রহমানের যোগদান এবং মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন করে হিসাব-নিকাশ।
এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন; জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কলাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সদ্য যোগদানকারী কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।
বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অঞ্চল হলো আমার নির্বাচনি এলাকা। এ অঞ্চলে ইতোমধ্যে পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেশকিছু সরকারি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এখানে অবস্থিত। কুয়াকাটাকে আমরা আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সাজাতে পারলে তা এ অঞ্চলসহ সারা দেশে প্রাণ সঞ্চার করবে। সুতরাং নির্বচনে যদি আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারি, ইনশাআল্লাহ আমাদের লক্ষ্য হবে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।’
দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকা, সততার সঙ্গে দলের সুনাম ও সম্মান ধরে রাখা, সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে কাজ করে যাচ্ছি। দলে আমার ত্যাগের মূল্যায়ন পাব বলে বিশ্বাস করি। মনোনয়ন পেলে ধানের শীষের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।’