ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজীডাঙ্গী ও টিলারচর গ্রামে পদ্মা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন নদীপারের বহু পরিবার। কয়েক দিনের টানা পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে হাজীডাঙ্গী গ্রামের এইচবিবি পাকা সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে এবং টিলারচর গ্রামে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের কবলে পড়েছে একটি বিদ্যালয়, একটি মসজিদ, মাদ্রাসা এবং বেশ কয়েকটি বসতঘর। এসব স্থাপনার অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে।
সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, হাজীডাঙ্গী গ্রামের পাকা সড়কের একাধিক স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয়ভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। টিলারচর গ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকাতেও ব্যাপক ভাঙন দেখা গেছে, যা নদীর পানিতে তলিয়ে থাকায় পরিমাণ অনুমান করা যাচ্ছে না।
টিলারচর গ্রামের নদীপারের বাসিন্দা মো. মুনসুর ব্যাপারী ও শেখ খোরশেদ জানান, পানির স্রোত এতটাই তীব্র যে, ভেসাল ও দোয়ারীর জন্য পুতে রাখা বাঁশ নিমিষেই নদীতে তলিয়ে গেছে।
হাজীডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা সোলায়মান সিকদার ও সুফিয়া বেগম বলেন, বর্ষার পানিতে একটু একটু করে পার ভেঙে এখন নদী এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের ঘরের কিনারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ভিটেমাটি নদীগর্ভে চলে যাবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলেপ মণ্ডল জানান, ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে হাজীডাঙ্গীর একটি মডেল মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা ও বহু বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
মঙ্গলবার ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং লিখিত চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, হাজীডাঙ্গী গ্রামের ধ্বসে যাওয়া পাকা সড়কের আপৎকালীন ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এক-দুই দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। তবে টিলারচর এলাকার অংশটি এখনো পানির নিচে থাকায় সেখানে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পানি কমলে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, চরভদ্রাসনের কয়েকটি পয়েন্টে মোট ৩.১৫ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।