দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে খেলাপি ঋণ। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, উৎপাদনমুখী শিল্প খাতেই খেলাপির চাপ সবচেয়ে বেশি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ।
কিন্তু চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায়—যা বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ২৭ শতাংশ। অথচ ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট বলছে, শিল্প খাতের জন্য বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪৯ দশমিক ২৮ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও জাহাজ নির্মাণ/ভাঙা শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
জাহাজ নির্মাণ ও ভাঙা শিল্পে পরিস্থিতি আরও গুরুতর—প্রায় ৪০ শতাংশ ঋণ ফেরত আসেনি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দা, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে শিল্প খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে, ফলে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মন্দা নয়, দুর্বল আর্থিক শৃঙ্খলা ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনের নামে নেয়া ঋণ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
খেলাপি ঋণের এই প্রবণতা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করছে। নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে, অন্যদিকে উৎপাদন কমায় কর্মসংস্থানেও সংকট তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সমাধানের জন্য প্রকৃত উদ্যোক্তাদের জন্য পুনঃতফসিল, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চয়তা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ জরুরি। একইসঙ্গে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।