ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি পৌঁছানোর স্বপ্নে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে একই নৌকায় উঠেছিলেন তিন বোন৷ কিন্তু সমুদ্রের প্রতিকূল আবহাওয়ায় রাবারের ডিঙ্গি নৌকায় পানি জমতে শুরু করলে মারা যান ওই তিন বোন৷
জার্মান সমুদ্র উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউশিপ’ পরিচালিত পালতোলা নৌকা নাডির রোববার এ তথ্য জানিয়েছে৷ এছাড়া নৌকায় থাকা অন্যান্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী নৌকাটি৷
তিন বোনই যুদ্ধবিধ্বস্ত আফ্রিকান দেশ সুদান থেকে এসেছিলেন৷ তাদের বয়স ছিল নয়, ১১ এবং ১৭ বছর৷ ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানোদের তালিকায় এখন পর্যন্ত সর্বশেষ হিসাবে যুক্ত হলো তাদের নাম৷
জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজারেও বেশি মানুষ ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসন রুটে প্রাণ হারিয়েছেন৷
রেসকিউশিপ জানিয়েছে, রাবারের ছোট ডিঙ্গি নৌকায় গাদাগাদি করে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা উঠেছিলেন৷ শুক্রবার রাতে প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিপদাপন্ন নৌকাটি থেকে ৬৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে নাডির৷ উদ্ধার অভিযানের সময় নৌকায় তিন বোনের মরদেহ দেখতে পান উদ্ধারকর্মীরা৷ এছাড়াও আরো এক অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি৷
ইটালীয় দ্বীপ লাম্পেদুসার কাছেই পরিচালিত এই উদ্ধার অভিযানে জীবিতদের মধ্যে ওই তিন বোনের মা ও ভাই ছিলেন বলেও জানিয়েছে নাডির৷
সবুজ রাবারের ডিঙ্গিটি শুক্রবার পশ্চিম লিবিয়ার জুওয়ারা থেকে রওনা হয়েছিল৷ নাডির-এর উদ্ধারকর্মী বারবারা সাতোর বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘‘নৌকাটিতে অতিরিক্ত ভিড় ছিল এবং আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছিল৷’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘একদিকে গভীর রাত, অন্যদিকে দেড় মিটার উঁচু ঢেউ৷ এমন পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাসছিল নৌকাটি৷’’
বিপদগ্রস্ত নৌকাগুলো থেকে বার্তা গ্রহণে কাজ করা সংস্থা অ্যালার্ম ফোন থেকে সতর্ক বার্তা পাওয়ার পরই অভিবাসীদের উদ্ধারে আসে নাডিরের উদ্ধারকর্মীরা৷ নৌকায় থাকা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরেই নৌকার নিচে জমে থাকা পানি এবং জ্বালানির মধ্যে পড়ে থাকা তিন বোনের মরদেহ দেখতে পান উদ্ধারকারীরা৷
সাতোর বলেন, ‘‘আমি একজন নারীর আহাজারি শুনতে পাচ্ছিলাম এবং একজন পুরুষকে পানির দিকে ইশারা করতে দেখেছি৷’’
অন্ধকার এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে উদ্ধারকর্মীদের৷ সাতোর বলেন, ‘‘চিকিৎসক দল চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তারা দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে ছিল৷’’
সাতোর বলেন, সন্তানহারা মা উদ্ধারকারী নৌকাটিতে রাখা তিন মেয়ের মরদেহের পাশে বসে ছিলেন৷ নাডির-এর নাবিকদের কাছে সাদা চাদর চেয়েছিলেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা, সেই চাদর দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয় মরদেহগুলো৷
উদ্ধার হওয়া অন্যান্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ছিলেন এক সন্তানসম্ভবা নারী এবং অনেক শিশু৷ তাদের মধ্যে চার জনের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল৷ তাই, ওই চারজনকে তাদের পরিবারের সদস্যসহ ইটালীয় উপকূলরক্ষীদের একটি জাহাজে স্থানান্তর করা হয়৷ বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা বেশিরভাগই সুদান থেকে এসেছেন৷ এছাড়া মালি, আইভরি কোস্ট, ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার নাগরিকেরাও নৌকাটিতে ছিলেন৷