বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল গ্রামের বাসিন্দা শামীম সিকদার। জীবিকার তাগিদে ২০০৮ সালে পাড়ি জমান দুবাই। কিন্তু নিজ গ্ৰামের মাটির টান বেশি দিন থাকতে দেয়নি বিদেশে। এক বছরের মাথায় দেশে ফিরে আসেন শামীম।
দেশে ফিরেই শুরু হয় তার ভাগ্য বদলের গল্প। অল্প কিছুদিনের মধ্যে নিজ বাড়িতে ‘রাইয়ান ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং খামার’ নামে একটি সমন্বিত গরুর খামার তৈরি করেন। এতে নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে গ্ৰামের বেশ কিছু বেকার যুবকের।
‘শখের বশে ২০১২ সালে ২০টি গাভি ও ষাঁড় দিয়ে শুরু হলেও এখন তার খামারের বিস্তৃতি অনেক। সবশেষ কোরবানিতে ৪৭০টি গরু বিক্রি করেছেন। এখন খামারের সঙ্গে সঙ্গে যোগ হয়েছে পুকুরে মাছ চাষ। সমন্বিত সেই খামার থেকে খরচ বাদে এখন তার মাসে আয় হচ্ছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা।’
কথা বলে জানা যায়, দেশে ফিরে ২০টি গাভি ও ষাঁড় কিনে খামার শুরু করেন শামীম সিকদার। তবে শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথমে অনেক কষ্ট হয়েছে। অভিজ্ঞ লোক পাওয়া কঠিন ছিল। রোগ-বালাই সামলানো, বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হয়েছে। কিন্তু হাল ছাড়েননি শামীম। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার, ভালো জাতের গরু সংগ্রহ এবং পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত যত্ন নিতে শুরু করেন তিনি। এতেই ধরা দিয়েছে সফলতা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার খামারের পরিধি।এখন শামীমের খামারে রয়েছে শতাধিক গরু। শুধু নিজের পরিবারের জন্যই নয়, আশপাশের বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই খামারকে কেন্দ্র করে।
শামীম সিকদার জানান, শখের বশে ২০১২ সালে ২০টি গাভি ও ষাঁড় দিয়ে শুরু হলেও এখন তার খামারের বিস্তৃতি অনেক। সবশেষ কোরবানিতে ৪৭০টি গরু বিক্রি করেছেন। এখন খামারের সঙ্গে সঙ্গে যোগ হয়েছে পুকুরে মাছ চাষ। সমন্বিত সেই খামার থেকে খরচ বাদে এখন তার মাসে আয় হচ্ছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা।
শামীম সিকদারের খামারে রয়েছে দেশি-বিদেশি জাতের শতাধিক গাভি ও ষাঁড়। এক একরের দুটি পুকুরে চাষ হচ্ছে মাছ। চার একর জমিতে চাষ করেছেন ঘাস। বেতনভুক্ত শ্রমিক রয়েছে ১০ জন।
‘শামীম সিকদারের খামারে রয়েছে দেশি-বিদেশি জাতের শতাধিক গাভি ও ষাঁড়। এক একরের দুটি পুকুরে চাষ হচ্ছে মাছ। চার একর জমিতে চাষ করেছেন ঘাস। বেতনভুক্ত শ্রমিক রয়েছে ১০ জন।’
শামীমের গরুর খামারে কাজ করা সাব্বির জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করে যে টাকা পাই তা দিয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণ করতে পারছি। শামীম প্রমাণ করেছেন, বিদেশে না গিয়ে দেশে থেকেও সফল হওয়া যায়।’সরেজমিনে দেখা গেছে, দুটি পুকুরের মাঝখানে গরু রাখার দুটি শেড ও একটি দোতলা ভবন। দুটি শেডে বিদেশি জাতের গাভি ও বাছুর এবং ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ষাঁড় রাখা হয়েছে।
শামীম সিকদারের খামারে প্রায় দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে। ১০ জন স্থায়ী কর্মচারী কাজ করছেন। খরচ বাদে বছরে আয় হচ্ছে ৩০-৪০ লাখ টাকা (মাসে আড়াই থেকে তিন লাখ)।
খামারে ৫০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা জানান শামীম সিকদার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে খামার থেকে প্রতিদিন ৩০০ লিটার দুধ পাই। যা বাজারজাত করতে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। খামারে ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে।
ভবিষ্যতে খামারের দুধ থেকে খাঁটি ঘি বিক্রি ও এলাকায় একটি মিষ্টির দোকান দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।‘দেশের মাটির ঘ্রাণই আসল সম্পদ। আমি বিদেশে স্বপ্ন খুঁজতে গিয়েছিলাম, কিন্তু স্বপ্নের আসল ঠিকানা পেয়েছি নিজের গ্রামে’, যোগ করেন খামারি শামীম সিকদার।
বরিশাল আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকার বলেন, নতুন নতুন খামার সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিই। শামীম সিকদারকে দেখে অনেকেই খামার গড়তে উৎসাহিত হচ্ছেন। খামারিদের সহযোগিতা করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ পাশে রয়েছে।