জনাব তারেক রহমান,
হাজার কোটি সালাম, ভালোবাসা এবং দোয়া দিয়ে আজকের লেখা। আশা করি আমাদের মত দেশপ্রেমিক হাজারো প্রবাসি এবং বাংলাদেশের লক্ষ কোটি জনতার ভালোবাসা নিয়ে ভালোই আছেন।
তবে;
আমরা ভালো নেই। আমরা ভালো না থাকার কারন নিয়ে আজকের লেখা—————-
হাজার ব্যস্ততার মধ্যে একটু পড়ে নিলে জাতি দল উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ। আমি একজন আপাদ মস্তক আপনার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শিক দল বি এন পি প্রেমিক এবং আপনার সাথে লন্ডনে দেখা করা মানুষ।
আমি যখন দেখা করেছিলাম তখন বি এন পির দুর্দিন। আজ আলহামদুলিল্লাহ ছাত্র জনতার লড়াইয়ে মুক্ত বাতাশের রাজনীতির সুঘ্রান বইছে।
আপনার নির্বাসিত জীবনে কঠোর পরিশ্রম দিয়ে ফ্যাসিবাদ হাসিনার রোসানলের বিরুদ্ধে দলকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
বিগত ফ্যাসিবাদের সাথে আপনার টিকে থাকার সংগ্রামে বিজয়গাঁথার এক ইতিহাস।সেখানে আপনার মার্জিত কথা বুদ্ধিমত্তা ছিল বড় সম্পদ।
৩৬ জুলাই থেকে এক বছর হলো দেশে গেলেন না তাই আমরা আপনা বিহনে বেপরোয়া। দীর্ঘ্য ১৬/১৭ বছরের নির্যাতন আর ক্ষুধায় আমরা আমাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারি নাই। তাই এক বছরে সকল রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গই হারানো সম্পদ ফিরে পেতে কৌশলগত কারনে দুর্নামের শীর্ষে। তাই দেশ এবং দল আপনাকে এই মুহুর্তে আপনার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভুমিকায় দেখতে চায়।
যেমন তিনি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভালো মানুষগুলো নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করে দল পরিচালনা করেছিলেন। উদহারন হিসাবে যদি বলি তা হলে বি চৌধুরীর কথা বলা যেতে পারে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া এ আদর্শিত দলের পচনশীল ফল গুলোকে ধুয়ে মুছে ফর্মালিন দিয়ে এবং প্রবাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আশির দশকের নেতাদের সংগবদ্ধ করে পরামর্শ নেয়া জরুরি বলে মনে করি।
দেশ এবং দেশের বাহিরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আশির দশকের জিয়াপ্রেমিক ছাত্রনেতা গুলো মান-অভিমানের বসবর্তী হয়ে প্রকাশ্যে দলের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করলেও দলের চোখের অন্তরালে থেকে দলকে আর্থিক সহযোগিতা সহ নানা কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করেছে। এই লোকগুলির কোন চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। তারা দুমুঠো ভাত এক টুকরো কাপড় পরিবারের সম্মান নিয়ে সততা আশ্রয় জীবন যাপন করছে।
রাজনৈতিক যথেষ্ট সচেতনতা থাকা সত্ত্বেও রাজনীতিকে ব্যবহার করে অর্থ বৈভব সৃষ্টি করার ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা একেবারেই নেই।
ইদানিং আপনি লন্ডনে অবস্থান করাতে বাংলাদেশ থেকে শত শত নেতাকর্মী আপনার পরামর্শ আপনার সাক্ষাৎ নেয়ার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। অথচ লন্ডনে বসবাসরত কিছু কুচক্রী মহলের কারণে আপনার সান্নিধ্য পাচ্ছেন না তাই তারা দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আপন মাটি বাংলাদেশে আবার ফিরে যাচ্ছেন।
আমি আমরা মনে করি আপনি এদের সাথে এই মুহূর্তে সাক্ষাৎ দেওয়া জরুরী কারণ ইতিমধ্য লন্ডনের রাস্তায় গুঞ্জন আছে আপনার সাথে বিশেষ কিছু মহল সাক্ষাৎ করিয়ে দেবার কথা বলে বাংলাদেশ থেকে আসা ঐ সকল লোকের কাছ থেকে অর্থের লেনদেন করছে যেটা আপনার ভাবমূর্তি দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে।
আপনি আপনার শত ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে উচিত হবে ১০ জন ২০ জন করে আধা ঘন্টা করে প্রতিদিন সময় দিয়ে এদের দিক নির্দেশনা দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিতে দেয়া। তাতে করে প্রত্যেকেই খুশি থাকবেন এবং বিএনপি’র জন্য কাজ করতে উৎসাহিত হবে।
মাদারিপুর শিবচরের মোতাহার শিদসিক এর ছেলে লাভু সিদ্দিক আপনার সাক্ষাতের আশায় বিলাতের মাটি থেকে ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে সম্ভবত দেশে ফিরে গেছেন। আপনার রাজনীতিতে লাভুদের মত ঐতিহ্যবাহি মানুষগুলো প্রয়োজন
না হয় রাজনীতিতে জটিলতার সৃষ্টি হবে।
আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার সাথে বসে তারা ছবি এবং সেলফি করে এটা বিকৃতভাবে প্রকাশ করে এলাকায় তাদের দৌরত্ব বাড়াবে সেখানে আপনি ছবি না করার নির্দেশনা রাখতে পারেন। তারপরেও এই মুহূর্তে ২০-৩০ জন লোককে প্রতিদিন সাক্ষাৎকার দিলে আপনার ক্ষতি হবে বলে মনে করি না বরং দল এবং আপনার ভাবমূর্তি বেড়ে যাবে। আর অল্প দিনের মধ্যেই এ জট কমে যাবে।
আপনি যদি অনতিবিলম্বে এদের সাথে ব্যবস্থা না করেন তাহলে কুচক্রি মহল আপনার সাথে দেখা করিয়ে দেয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেবে যেটা আপনার ভাবমূর্তিকে ভীষণভাবে ক্ষুন্ন করবে এবং জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব বিস্তার করবে।
এই সময় আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হওয়া মানে দেশের সাথে ষড়যন্ত্র হওয়া। তাই বি এন পির একজন ক্ষুদ্র সমর্থক হয়ে বিনীত অনুরোধ জানাবো যে আপনি লন্ডনে যারা দেখা করতে যাবে তাদের প্রত্যেকের জন্য একটা সাক্ষাত সেল গঠন করেন। এই ছেলের আপনি বাংলাদেশী ১০ জন ২০ জন করে সপ্তাহে সাক্ষাৎ দিন এবং আপনার নির্দেশনা মূলক বক্তব্য দিয়ে উৎচ্চারিত করুন।
আর ইউরোপ আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া এবং বিভিন্ন স্থানে যারা আশির দশকের ছাত্রনেতা তাদের সংগ্রহ করে আপনি একটা সাক্ষাৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। যাতে করে আগামী দিনের রাজনীতিতে এদের পরামর্শ জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। বেশি লিখে আর বিরক্ত করব না। আপনার জন্য শুভকামনা দল এবং দেশের ভবিষ্যৎ সততার প্রতি সম্মান রেখে আমি আজকে লেখা শেষ করছি।
ইতালি থেকে আমি মিজানুর রহমান মুন্সী।
সাবেক ছাত্রনেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।