শরীয়তপুরের জাজিরায় বড়কান্দি বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক স্থানীয় মসজিদ কমিটির সদস্য খবির সরদার (৫৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলমাস সরদারের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের ওমর উদ্দিন মাদবর কান্দি গ্রামের মৃত জব্বার মাস্টারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে বস্তাবন্দী ও মাটিচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে স্থানীয় নয়াবাজার থেকে বড় ভাই দানেশ সরদারের বাড়ি ফেরার পথে আলমাস ও তার সহযোগিরা ধারালো ছুরি দিয়ে খবির সরদারের ওপর হামলা চালান। তাকে কুপিয়ে পুকুরে ফেলে পালিয়ে যান তারা। স্বজনেরা উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক খবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় খবির সরদারের ভাই দানেশ সরদার বাদী হয়ে আলমাসকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন।
এর দুদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে আলমাসের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হল।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলাকায় গুঞ্জন ওঠে খবির হত্যার পর আলমাসকেও হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। পুলিশ পুকুরে তল্লাশি চালিয়েও কাউকে পায়নি। পরে রাত ১১টার দিকে খবর পায় আলমাসের মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় রাখা হয়েছে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে, যা স্বজনেরা আলমাস সরদারের বলে সনাক্ত করে।
আলমাসের বোন লিপি আক্তার বলেন, দানেশ সরদারের পরিবারের সদস্যরা আমার ভাইকে হত্যা করে গুম করেছে। দুই দিন ধরে তাকে খুজেছি। অবশেষে মাটি চাপা অবস্থায় খুঁজে পেলাম। আমি আমার ভাইয়ের হত্যা কান্ডের বিচার চাই।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘বস্তাবন্দী মাটিচাপা অবস্থায় খবির সরদার হত্যার প্রধান আসামি আলমাস সরদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি অর্ধগলিত হওয়ায় শরীরে আঘাতের চিহ্ন বুঝা যাচ্ছেনা। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’